২০১৯ সালে হাবিবুর রহমান সবুজ হত্যা মামলায়ও তাঁর নাম ছিল পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে; এর আগে ওই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁকে আটক করেছিল র্যাব।
খুলনার বটিয়াঘাটা থেকে অনুপম মহলদারকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে বটিয়াঘাটা থানা-পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হাটবাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনুপম ওই এলাকার নিভান মহলদারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি বটিয়াঘাটা থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনুপমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের ভাষ্য, অনুপমের বিরুদ্ধে নগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগে খুলনার সন্ত্রাসী ‘বি-কোম্পানি’র সহযোগীদেরও গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। সন্ত্রাস দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
২০১৯ সালের সবুজ হত্যা মামলায় নাম
অনুপমের নাম আলোচনায় আসে ২০১৯ সালে হাবিবুর রহমান সবুজ হত্যা মামলায়। সে বছরের ৭ মার্চ খুলনা নগরীর শের-এ-বাংলা রোড ও ফারাজিপাড়া এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে সবুজের মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। সাতক্ষীরার বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী সবুজ ইটভাটার ঠিকাদারির কাজ করতেন। তিনি মোটরসাইকেলে খুলনায় আসার পর নিখোঁজ হন; পরে তাঁর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন। সে সময় তাঁর শরীরের কিছু অংশ উদ্ধার করা যায়নি বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
ঘটনার পর ১১ মার্চ র্যাব-৬ সন্দেহভাজন হিসেবে সরদার আসাদুজ্জামান ও অনুপম মহলদারকে আটক করে। র্যাবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসাদুজ্জামানের ভাড়া বাসা থেকে সবুজের মরদেহের আরও কিছু অংশ উদ্ধার করা হয় বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়। নিহতের ভগ্নিপতি গোলাম মোস্তফা ৯ মার্চ খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের অক্টোবরে পিবিআই পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্রে অনুপমের নামও ছিল। দৈনিক ইত্তেফাকের সে সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, পিবিআই তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরকীয়া-সংক্রান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করেছিল এবং মামলায় ৪৬ জনকে সাক্ষী করা হয়।
আরও দুই হত্যা মামলা ও চুরি মামলায় দণ্ড
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে খালিশপুর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে এবং ২০১৪ সালে ফুলতলা থানায় দায়ের করা আরেকটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রেও অনুপমের নাম রয়েছে। এসব মামলার বর্তমান বিচারিক অবস্থা সম্পর্কে পুলিশের দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এ ছাড়া, ২০০৯ সালে বটিয়াঘাটা থানায় দায়ের করা একটি চুরি মামলায় অনুপমের তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। নতুন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।