আমি ঢাকার একটি টপ ইউনিভার্সিটি থেকে ভালো একটি বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেছি। ২০২৫ সালে আমার বিয়ে হয় স্বামীর সঙ্গে ৫ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাকে ভালোবেসে পরিবারের অনেক ভালো বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি। সে যখন বেকার ছিল, তখনো তার পাশে থেকেছি, অপেক্ষা করেছি। আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো হওয়া সত্ত্বেও আমি তার টাকা-পয়সা নয়, তার ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততাকে গুরুত্ব দিয়েছি।
কিন্তু বিয়ের পর সবকিছু বদলে যায়। আমার pregnancy ৬ মাসে তার ফোনে অন্য মেয়েদের সঙ্গে লুতুপুতু চ্যাট এবং এক্স-গার্লফ্রেন্ডের প্রতি ভালোবাসার কথা লিখে রাখা নোট দেখতে পাই। তার একজন জুনিয়র মেয়ের নেকামি ভিডি দেখতে পাই , যা দেখে আমার মনে হয়েছে, আমাদের সম্পর্ক চলাকালীনও সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে এতে তার প্রতি আমার বিশ্বাস একেবারে ভেঙে যায়। এগুলো ধরলে সে আমার কাছে মাফ চাই অনেক বার । বিয়ের পর থেকেই আমি আমার স্বামীকে সম্পূর্ণ অন্য একজন মানুষ হিসেবে দেখতে শুরু করি। সে আমার সঙ্গে খুব কম কথা বলে, আমাকে সময় দেয় না। সব সময় কাজের অজুহাত দেখায়। কোনো খরচ করলে বা আমার কোনো প্রয়োজন মেটাতে হলে তার মুড খারাপ হয়ে যায়। আমার কথার উত্তর দেয় না। অফিস থেকে ফিরে ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বেশির ভাগ সময় মুখ গোমড়া করে থাকে, যেন আমি তার শত্রু। আমি সবকিছু উপেক্ষা করে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তার আচরণে কখনোই মনে হয়নি যে আমি তার স্ত্রী, তার ভালোবাসার মানুষ।
এখানে একটা বিষয় বলে রাখা দরকার, আমার প্রেগন্যান্সিটা আনপ্ল্যানড ছিল। আমার স্বামী এখন সন্তান নিতে চাইছিলো না ।তার বিদেশে মাস্টার্স বা পিএইচডি করার ইচ্ছা ছিল। কারন সন্তান হলে বিদেশে যাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত আমার অনুরোধে সে সন্তান রাখতে রাজি হয়।
কিন্তু এরপর থেকেই যেন আমার জীবনে নরক নেমে আসে।
পুরো প্রেগন্যান্সিজুড়ে সে আমাকে খুব খারাপভাবে ট্রিট করেছে। আমাকে অবহেলা করেছে, আমার সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলেনি, মানসিক চাপের মধ্যে থেকেছি, কেঁদে কেঁদে দিন কাটিয়েছি। এসব এর কারনে আমার বাচ্চার ওজনও কম এসেছে। আমি জানি না, আমার বাচ্চার ভবিষ্যৎ কী হবে।
যে মানুষটাকে ভালোবেসে নিজের পরিবার, পছন্দ, এমনকি বিলাসবহুল জীবনযাপনও ছেড়ে দিয়েছি, আজ সেই মানুষটার কাছ থেকেই এমন আঘাত পাচ্ছি, যা মেনে নেওয়া আমার জন্য ভীষণ কষ্টের।
আমি এখন ৯ মাসের প্রেগন্যান্ট, কয়েক দিন পরই ডেলিভারি। মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়েছি, সবচেয়ে বেশি ভয় হয় আমার সন্তানকে নিয়ে। আমার স্বামীর আচরণে আমার বা আমাদের সন্তানের প্রতি ভালোবাসা দেখতে পাই না। মনে হয়, সে শুধু দায়িত্ব পালন করছে, মন থেকে কিছুই করছে না। সে প্রায়ই বলে, তার বিয়ে করা উচিত হয়নি, সন্তান নেওয়া উচিত হয়নি। পুরো প্রেগন্যান্সিজুড়ে সে আমাকে এমন অপরাধবোধে ভুগিয়েছে, যেন আমি তার জীবন নষ্ট করে দিয়েছি। কিন্তু আমি আমার স্বামীকে ভীষণ ভালোবাসি। তার এই আচরণগুলো আমাকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়। প্রেগন্যান্সির সময় সে আমার সঙ্গে যা যা করেছে, যে মানসিক কষ্ট দিয়েছে, সেগুলো আমি কোনো দিন ভুলতে পারব না।
আমি সত্যিই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি এবং বুঝতে পারছি না, এই পরিস্থিতিতে আমার কী করা উচিত।
পরামর্শ: দৈনিক বাংলা নিউজের মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ বিভাগ
আপনার কষ্টকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিনের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের সম্পর্কে প্রতারণার ইঙ্গিত, অবহেলা এবং “বিয়ে বা সন্তান নেওয়া উচিত হয়নি”—এ ধরনের কথা আপনাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। আপনার স্বামীর সিদ্ধান্ত বা আচরণের দায় আপনার একার নয়। তাঁকে ভালোবাসেন বলেই নিজের কষ্ট ও নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করতে হবে—এমনও নয়।
তবে এই মুহূর্তে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে আপনার ও শিশুর নিরাপত্তা এবং প্রসবের প্রস্তুতি আগে। আজই আপনার গাইনি চিকিৎসককে মানসিক চাপের কথা খুলে বলুন—প্রসবের পরিকল্পনা ও শিশুর ওজন নিয়ে আপনার উদ্বেগও জানান। সম্ভব হলে পরিবারের এমন একজন বিশ্বস্ত মানুষকে পাশে রাখুন, যিনি প্রসবের সময় ও পরে আপনাকে সহায়তা করতে পারবেন। শিশুর ওজন কম বলা হলে তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আগেভাগে খারাপ কিছু ধরে নেবেন না; চিকিৎসক ও নবজাতক বিশেষজ্ঞের পরামর্শেই শিশুর অবস্থা বোঝা যাবে। শুধু মানসিক চাপের কারণেই শিশুর ওজন কমেছে—এমন সিদ্ধান্তও পরীক্ষা ছাড়া করা যায় না।
আপনি যে ভেঙে পড়েছেন, সেটি একা সামলাতে হবে না। গাইনি চিকিৎসকের কাছে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা চান। গর্ভাবস্থায় ও সন্তান জন্মের পর মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে; দ্রুত সহায়তা নেওয়া মা ও শিশুর যত্নে সাহায্য করে।
প্রসবের পরও আপনার মন-মেজাজ, ঘুম, উদ্বেগ ও দৈনন্দিন কাজ সামলানোর ক্ষমতার দিকে খেয়াল রাখুন। দীর্ঘদিন তীব্র মনখারাপ বা উদ্বেগ থাকলে, কিংবা নিজের বা শিশুর ক্ষতি করার চিন্তা এলে—কাছের বিশ্বস্ত কাউকে সঙ্গে নিয়ে অবিলম্বে চিকিৎসক বা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান।
আপনার স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা পরে করা যেতে পারে—যখন আপনি শারীরিকভাবে স্থিতিশীল এবং পাশে সহায়তাকারী মানুষ থাকবেন। তখন তাঁর আচরণ, দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং আপনাদের দুজনের জন্য কাউন্সেলিং উপযুক্ত কি না—এসব ভেবে দেখা যায়। কিন্তু এখন আপনার প্রথম কাজ হলো সাহায্য চাওয়া, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রসবের সময় একা না থাকা।